উদ্ভিদ থেকে প্রাণী—সব দেহের মধ্যে একটি 'ঘড়ি' রয়েছে, যার নিজস্ব সত্তা আছে। এই ঘড়িটি বাইরের দিনরাতের ঘড়ির সাথে একমত নাও হতে পারে। আমাদের দেহের এই ঘড়ির কারণেই আমরা সারাদিনের কর্মকাণ্ডের পর রাতে ঘুমিয়ে পড়ি। তবে এই ঘড়ির অস্তিত্ব প্রমাণ করতে বিজ্ঞানীদের প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে।
দ্য মাইরান (de Mairan) অষ্টাদশ শতকে একটি কঠিন পরীক্ষা করেছিলেন। তিনি একটি লজ্জাবতী গাছকে এক সপ্তাহ ধরে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেছিলেন, যাতে দেখতে পারেন গাছের পাতা বাইরের আলো-অন্ধকারের উপর নির্ভর করে ঝিমিয়ে যাচ্ছে নাকি তাজা হচ্ছে। যদিও সেটআপটি সহজ মনে হচ্ছিল, কিন্তু বেশ কিছু সমস্যা ছিল। যখনই গাছটি দেখার জন্য আলমারির দরজা খোলা হতো, কিছু আলো ঢুকে যেত। এর মানে বাইরের দিনরাতের প্রভাব পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাছাড়া, দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্যও ছিল। দ্য মাইরান তাঁর আর্টিকেলে বলেছিলেন, “গাছের মধ্যে এই ছন্দ রয়েছে বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু আমি প্রমাণ করতে পারছি না কারণ আমি অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি।”
এই পরীক্ষার ফলাফল বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু করেছিল। 1500 বছর ধরে যে ধারণা ছিল, সেটি নতুন করে মূল্যায়ন করতে হয়েছিল—গাছের কি আসলেই নিজস্ব ছন্দ রয়েছে? 1729 থেকে 250 বছর পর পর্যন্ত এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য নানা গবেষণা চলেছে। 1980-এর দশকে বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু পরীক্ষা করেছেন, এমনকি মহাশূন্যে গাছ নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ এবং দিনরাতের প্রভাব ছিল না, ফলে সবকিছু নিয়ন্ত্রিত ছিল।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন