Iframe sync ম্যারি কুরি ছিলেন বিশ্বের প্রথম মহিলা, যিনি দুটি ভিন্ন বিষয়ে নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন—১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে এবং ১৯১১ সালে রসায়নে। এছাড়াও, তিনি প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা অধ্যাপিকা ছিলেন। এখানেই তার সাক্ষাৎ হয়েছিল পিয়েরে কুরির সাথে, যিনি পরে তার স্বামী হন। তারা একসাথে বিকিরণ (রেডিয়েশন) নিয়ে গবেষণা করেন, যার জন্য নোবেল কমিটি প্রথমে কেবল পিয়েরে কুরিকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করতে চেয়েছিল। কিন্তু পিয়েরের জোরালো আপত্তির কারণে মেরিকেও নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করতে হয়। মেরি কুরির দুটি কন্যা ছিল
আইরিন, জন্ম ১৮৯৭ সালে এবং ইভ, জন্ম ১৯০৪ সালে। মেরির স্বামী পিয়েরে এক দুর্ঘটনায় মারা যান ১৯০৬ সালে, যখন ইভ মাত্র দেড় বছর বয়সী। মেরি ল্যাবের কাজ এবং মেয়েদের লালনপালন দুই দায়িত্বই একসাথে পালন mmm করছিলেন, যা নিঃসন্দেহে কঠিন ছিল। প্যারিসে মেয়েদের জন্য বিদ্যমান স্কুলিং সিস্টেম পছন্দ না হওয়ায়, মেরি নিজেই বাড়িতে তাদের শিক্ষা দিতেন। ১৯১১ সালে, মেরি কুরি রেডিয়াম এবং পোলোনিয়াম আবিষ্কারের জন্য আবারও রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন, যা আজ ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। তবে রেডিয়ামের ক্রমাগত এক্সপোজার মেরির স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়, এবং ১৯৩৪ সালে ৬৬ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মেরির অসাধারণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আমেরিকা তাকে সম্মান জানিয়ে তাদের দেশে পাওয়া এক গ্রাম রেডিয়াম তার গবেষণার জন্য দান করে। মেরি এটিকে ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ না করে তার প্রতিষ্ঠানে দান করেন, যাতে তার মৃত্যুর পর সেটি পরিবারের দখলে না থাকে।মেরির দুই কন্যাও তাদের মায়ের মতো অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। বড় মেয়ে আইরিন ১৯৩৫ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। ছোট মেয়ে ইভ, যিনি শিল্প ও লেখালেখিতে আগ্রহী ছিলেন, যুদ্ধ সাংবাদিকতার জন্য পুলিৎজার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। পরবর্তীকালে তিনি ইউনিসেফের ‘ফার্স্ট লেডি’ হন, এবং তার স্বামী ১৯৬৫ সালে ইউনিসেফের পক্ষে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
এইভাবে কুরি পরিবার হলো পৃথিবীর একমাত্র পরিবার, যার সদস্যরা পাঁচটি নোবেল পুরস্কার জিতেছেন—পিতা, মাতা এবং দুই কন্যা। এমন অসামান্য প্রতিভা নিয়ে সমৃদ্ধ পরিবার পৃথিবীর ইতিহাসে আর নেই।

.jpeg)
.jpeg)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন